৩১ জুনের আগে গ্যাস সংযোগে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে বন্ধ হতে পারে পরিষেবা: বড় ঘোষণা
গ্যাসের ভর্তুকি পাওয়া থেকে শুরু করে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা—সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে গ্রাহকদের জন্য এলপিজি (LPG) সংযোগ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই কাজগুলো সম্পন্ন না করলে গ্রাহকদের ভোগান্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে এলপিজি পরিষেবা পাওয়ার জন্য আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি (e-KYC) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের ডাটাবেস হালনাগাদ করার জন্যই এই পদক্ষেপ। যারা এখনও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি, অবিলম্বে তাদের নিকটস্থ ডিস্ট্রিবিউটর বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অ্যাপের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে বলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ না করলে গ্যাসের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিলিন্ডার বুকিংয়েও বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
জরুরি যে বিষয়গুলো গ্রাহকদের খেয়াল রাখতে হবে:
ই-কেওয়াইসি: প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা বা সাধারণ এলপিজি সংযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই বায়োমেট্রিক ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক। এটি সম্পন্ন করার জন্য গ্রাহককে ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে সশরীরে গিয়ে আঙুলের ছাপ বা আধার যাচাই করতে হতে পারে।
পিএনজি (PNG) সংযোগ: যেসব এলাকায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা রয়েছে, সেখানে পিএনজি সংযোগ নেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী এলপিজি সিলিন্ডার সারেন্ডার করতে হবে। পিএনজি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পুরনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সঠিক মোবাইল নম্বর: গ্যাস বুকিং ও নিরাপত্তার খাতিরে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর আপডেট রাখা জরুরি। বর্তমানে ডেলিভারির সময় ওটিপি (OTP) যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক, তাই নম্বর ভুল থাকলে সিলিন্ডার পেতে সমস্যা হতে পারে।
এক পরিবার, এক সংযোগ: সরকার ‘এক পরিবার, এক গ্যাস সংযোগ’ নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। একটি বাড়িতে একাধিক কানেকশন থাকলে তা দ্রুত সারেন্ডার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ভুয়া গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে ভর্তুকির টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই কঠোর নিয়ম। আগামী ৩০ জুনের পর পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়ে গ্রাহকদের দ্রুত সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা।