ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: এমবাপ্পেকে টেক্কা দিয়ে মঞ্চে হালান্ড! ইরাককে উড়িয়ে ২৮ বছর পর স্বপ্নের বিশ্বকাপে নরওয়ে
ফুটবলের মহাযজ্ঞে দীর্ঘ আক্ষেপের অবসান। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর ফের বিশ্বমঞ্চের মূলপর্বে পা রাখল নরওয়ে। মঙ্গলবার রাতে ইরাকের বিরুদ্ধে দাপুটে পারফরম্যান্সে ৩-০ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলেন এরলিং হালান্ডরা। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক স্বয়ং হালান্ড, যার বিধ্বংসী ফর্মে এখন কাঁপছে বিশ্ব ফুটবল।
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর নরওয়ের এই প্রত্যাবর্তন যেন রূপকথার মতো। তবে এই রূপকথার মূল কারিগর হালান্ড। ইরাকের রক্ষণের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল্ডেন বুট জয়ের পথে সবথেকে বড় বাধা হতে চলেছেন তিনিই।
ম্যাচের বৃত্তান্ত:
প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল নরওয়ে। প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে মার্কাস ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হালান্ড। ইরাক চেষ্টা করেও নরওয়ের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে হালান্ডের দুর্দান্ত গতি এবং পাওয়ারফুল শট সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ইরাকি ডিফেন্ডারদের। ৬৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং ৭৫ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন।
এমবাপ্পে বনাম হালান্ড দ্বৈরথ:
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে চলেছে এই দুই সুপারস্টারের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের বড় মঞ্চ। একদিকে এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা, অন্যদিকে হালান্ডের ফিনিশিং দক্ষতা— দুই মহাতারকার লড়াই দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে রয়েছে বিশ্ব। ইরাকের বিরুদ্ধে জয়ের পর হালান্ড সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা শুধু অংশ নিতে আসিনি, আমরা কাপ জেতার স্বপ্ন নিয়ে এসেছি।”
নরওয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ে সারা দেশে এখন উৎসবের মেজাজ। দীর্ঘ তিন দশক পর বিশ্বকাপে নরওয়ের ফিরে আসা নিশ্চিতভাবেই এবারের আসরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে থাকবে। এখন দেখার, এই ছন্দে থেকে হালান্ড শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের আধিপত্য কতটা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
আপনার কি মনে হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে টপকে যেতে পারবেন এরলিং হালান্ড?